Tuesday, July 19, 2011

বেশি করে পেঁপে খান

কথায় আছে_'চৎবাবহঃরড়হ রং নবঃঃবৎ ঃযধহ পঁৎব' অর্থাৎ রোগ হওয়ার আগেই রোগ প্রতিরোধ করা উচিত, তাই আমাদের খাবার-দাবার, বাসস্থানের পরিবেশ, জীবনযাত্রা_ সব কিছুই স্বাস্থ্যসম্মত হওয়া উচিত। আমরা কম-বেশি সবাই এসব স্বাস্থ্যসম্মত বিষয় সম্পর্কে জানি। কিন্তু মানি কতজন? অসুখ হওয়ার আগেই অসুখকে প্রতিহত করা যেমন উচিত তেমনি দৈনন্দিন জীবনে অসুখ-বিসুখকে ভেষজ দিয়ে হাতের কাছে থাকা খাদ্যসামগ্রী দিয়ে, অতি সহজে সমাধান করতে পারি। পেঁপে এমনি একটি ঔষধিগুণসম্পন্ন খাদ্য। যা প্রায় প্রতিদিন আমাদের রান্না ঘরে থাকে, পেঁপে গাছও খুব সহজলভ্য।
পেঁপে ছাড়াও পেঁপের আঠা, পাতা ও বীজেও ঔষধিগুণ আছে।
ষ লিভার বৃদ্ধিতে : খাদ্য, অনিয়ম বিভিন্ন কারণে লিভার বৃদ্ধি পায় এবং বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি হয়। যেমন জন্ডিস। লিভার বৃদ্ধি পেলে ৩০ ফোঁটা পেঁপের আঠা, এক চামচ চিনি, এক কাপ পানিতে মিশিয়ে সারা দিনে ৩ বার খেতে হবে। ৪-৫ দিন পর লিভার বৃদ্ধি কমতে থাকবে, ৫-৬ দিন পর সপ্তাহে ২ দিন এই নিয়মে খাবেন।
কোষ্ঠবদ্ধতা ও হজমের সমস্যা : যদি সব সময় কোষ্ঠকাঠিন্য ও হজমের সমস্যা লেগে থাকে তবে প্রতিদিন কাঁচা পেঁপে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এতে কোষ্ঠবদ্ধতা চলে যাবে, ভালো হজম হবে, কারণ পেঁপের পাপাইন নামক অ্যানজাইম আছে, যা হজমে সাহায্য করে।
ষ অরুচি : কফের সমস্যা থেকে অরুচি হলে প্রতিদিন সকালে ২-৩ ফোঁটা পেঁপের আঠা পানিতে মিশিয়ে খেতে হয়, এর দ্বারা খিদে বেড়ে যাবে এবং হজমও হবে।
ষ পেট ফাঁপায় : একটু করে পাকা পেঁপের শাঁসের সঙ্গে সামান্য লবণ এবং একটু গোলমরিচের গুঁড়া এক সঙ্গে মিশিয়ে খেতে হয়, এর দ্বারা পেট ফাঁপা ভালো হয়।
ষ আমাশয় : পেট মোচড় দিয়ে ব্যথা হচ্ছে এমন অবস্থায় কাঁচা পেঁপের আঠা ৩০ ফোঁটা, চুনের পানি এক চা চামচ ও অল্প দুধ মিশিয়ে খেতে হবে। একবার খেলে ব্যথা কমবে ও আম বের হয়ে আসবে।
ষ পাকস্থলীর ক্রিয়া : পাকস্থলী সঠিকভাবে কাজ না করলে পেঁপের শুকনা পাতা পানিতে ভিজিয়ে সে পানি নিয়মিত খেলে উপকার পাবেন।
ষ পাইলস : যে পাইলসে রক্ত ঝরে, সে ক্ষেত্রে প্রতিদিন সকালে কাঁচা পেঁপের আঠা ৫-৭ ফোঁটা মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খেতে হবে।
ষ জ্বর, মূত্র নিঃসরণ, হৃদদৌর্বল্য : হালকা গরম পানিতে পাতা টুকরা করে দিয়ে ৩-৪ ঘণ্টা পর ওই পানি পান করলে জ্বরের তাপ কমবে, প্রস্রাব নিঃসরণ বাড়বে, হৃদয়ের বল বাড়বে।
ষ কৃমি : পেঁপের আঠা ১৫ ফোঁটা, মধু এক চা চামচ একসঙ্গে মিশিয়ে খেতে হবে, আধা ঘণ্টা পর আধাকাপ হালকা গরম পানি খেতে হবে। একটু পরে চুনের পানি খেতে হবে, এভাবে ২ দিন খেতে হবে।
ষ উকুন : পেঁপের আঠা ১ চামচ ও পানি ৭-৮ চামচ মিশিয়ে চুলের গোড়ায় লাগাতে হবে, ৩০ মিনিট পর ধুতে হবে, ১ দিন পর পর ২-৩ দিন লাগালে উকুন মরে যাবে।
ষ দাদ : কাঁচা পেঁপের আঠা দাদে ১ দিন পর পর লাগালে উপকার হয়।
ষ স্কিনের কোমলতা : পাকা পেঁপে খুব ভালো ময়েশ্চারাইজার। পাঁকা পেঁপে ও মধু মিশিয়ে স্কিনে লাগিয়ে ৩০ মিনিট পর ধুয়ে নিন, স্কিন কোমল, সজীব হবে।
ষ ডেডসেল তুলতে : পেঁপের অ্যানজাইম ডেডসেল অর্থাৎ মরা চামড়া তুলতে সাহায্য করে। তাই চালের গুঁড়ার সঙ্গে পেঁপের আঠা ও গোলাপজল মিশিয়ে মুখে লাগান, ১০-১৫ মিনিট পর ভালোভাবে ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন।
ষ মেসতা, ফ্রিকেলস, ব্রণের দাগ : যদি মুখে মেসতা, ফ্রিকেলস ব্রণের দাগ থাকে, তবে কাঁচা পেঁপে বাটার সঙ্গে বেশন মিশিয়ে মুখে লাগান, ১০-১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত করুন, এসব দাগ উঠে যাবে। সে সঙ্গে এসব সমস্যার মূল কারণ জেনে সমাধান করতে হবে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, মল, মূত্র পরিষ্কার থাকতে হবে। অর্থাৎ জীবনযাত্রার ক্ষেত্রে নিয়মানুবর্তিতা মেনে চলতে হবে।

বীথি চৌধুরী
ডিএএমএস, স্কিন থেরাপিস্ট, বীথিস হারবাল

No comments:

Post a Comment