সম্প্রতি যে রোগ নিয়ে ইউরোপে হৈ চৈ পড়ে গেছে তার নাম ই-কোলাই। গত সপ্তাহ পর্যন্ত শুধু জার্মানিতে প্রায় ১৭ জন মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়ছে। প্রথমে বলা হয়েছিল স্পেন থেকে আমদানি করা শসা থেকে এই ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে পড়েছে। পরে জানা গেছে শসা এর মূল উত্স নয়। ভয়ে তাই স্পেন থেকে আসা কাঁচা শাক-সবজি কেনা বন্ধ রেখেছে মানুষ। কী এই ই-কোলাই? কীভাবে এর প্রতিকার করা যায়?
কী এই ই-কোলাই?
ই-কোলাই এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া। এটা সাধারণত তেমন কোনো ক্ষতি করে না। কিন্তু মানব দেহে তা খাবারের সঙ্গে প্রবেশ করতে পারে। প্রবেশ করলে তা ফুড-পয়জনিং বা খাবারে বিষক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। ফলে মানুষটি মারা যেতে পারে। ই-কোলাইয়ের ব্যাকটেরিয়া সাধারণত পাকস্থলীতে আশ্রয় নেয়। সেখান থেকেই শুরু হয় বিষক্রিয়া। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, এর আগে ই-কোলাইয়ের ব্যাকটেরিয়ার কথা কেউ জানত না। এটা সম্পূর্ণ নতুন একটা ব্যাকটেরিয়া। ই-কোলাইয়ের আবির্ভাব এই প্রথম। এর মূল উত্স কোথায় তা এখনও জানা যায়নি। ই-কোলাইয়ের ব্যাকটেরিয়া খালি চোখে দেখা যায় না। এর দৈর্ঘ্য দুই মিলিমিটার। দেখতে সিলিন্ডারের মতো। রঙ সাধারণত লাল।
সম্পূর্ণ নতুন একটি ব্যাকটেরিয়া
খাবার-দাবার, কাচাা শাকসবজি আমদানি এবং রফতানি ছাড়াও অসুখ-বিসুখ নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে একটি চুক্তি হলো—যদি কোনো ধরনের ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া একটি দেশে ছড়িয়ে পড়ে তাহলে অন্য দেশগুলোকে দ্রুত সচেতন ও সতর্ক করে দেয়া। খাবারের মধ্য দিয়ে যদি কোনো ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে তাহলে তা আরএএসএফএফ বা র্যাপিড অ্যালার্ম সিস্টেম ফর ফুড অ্যান্ড ফিডকে জানানো জরুরি। তবে বাস্তব সত্য হলো, ই-কোলাই নিয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করার আগেই বেশ কয়েকজন প্রাণ হারিয়েছেন। জার্মানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সবার আগে এবং জার্মানিতেই প্রথম ব্যাকটেরিয়াটি ধরা পড়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কৃষি দফতরের কমিশনার ডাসিয়ান সিওলোস জানান, আমি বিশ্বাস করি যে সাধারণ মানুষের বিভিন্ন পণ্যের ওপর আস্থা ফিরিয়ে আনা জরুরি। যেসব খাবার, কাঁচা শাকসবজি বাজারে বা সুপার মার্কেটে বিক্রি হচ্ছে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয় তা জানানো প্রয়োজন। তবে কোনো অবস্থাতেই কোনো দেশ বা সংস্থাকে দোষী সাব্যস্ত করা ঠিক হবে না। যেসব পণ্য আমদানি বা রফতানি করা হয় তার প্রতিটিই দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সূক্ষ্মভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হয়। তারপরও কিছু কিছু জিনিস আমাদের চোখ ফাঁকি দেয় এবং এর মারাত্মক ফল ভোগ করে পণ্য প্রস্তুতকারীরা।
তবে ডাসিয়ান সিওলোস বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বাস্থ্য দফতরের কমিশনার জন ডালি ই-কোলাইয়ের বিস্তারকে মারাত্মক বলে আখ্যায়িত করেছেন। ডালি বললেন, আমি কাউকে বলব না হামবুর্গে বেড়াতে যেও না। তা একেবারেই ঠিক হবে না। আমি মনে করি, আমাদের আরও স্বাস্থ্যসম্মতভাবে চলাফেরা করা উচিত। যেমন প্রতিবার খাওয়ার আগে ভালোমত হাত ধুয়ে নেয়া, কাঁচা ফল বা সবজি যা খেতে রান্নার প্রয়োজন হয় না তা ভালোমত ধুয়ে তারপর খাওয়া। এসব নিয়ম-কানুন মেনে চললে সমস্যা এমনি থেকেই কমে আসবে। ভয় পাওয়ার মতো কিছু নেই।
হামবুর্গে এই রোগ প্রথম ধরা পড়ায় সেখানে সবাই ভীত। এখন পর্যন্ত যেসব মানুষ অসুস্থ রয়েছে তাদের চিকিত্সার জন্য রক্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, প্রায় দুশ’ মানুষ এই ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত, তাদের চিকিত্সা চলছে।
সুইডেনে ই-কোলাইয়ে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে একজন। সারা ইউরোপে প্রায় পনেরশ’ মানুষ ই-কোলাইয়ে আক্রান্ত। আমেরিকা পর্যন্ত তা ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা তিন। কাঁচা সবজি কেনা বন্ধ রেখেছে মানুষ। আর এর খেসারত দিতে হচ্ছে কৃষকদের। স্পেন জানিয়েছে, গত সপ্তাহে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে প্রায় দুশ’ মিলিয়ন ইউরো। জার্মান কৃষকদের অবস্থাও ভালো নয়। ভয়ে ক্রেতারা কাঁচা শাকসবজি কেনা পুরোপুরি বন্ধ রেখেছে। জার্মানিতে ভোক্তাদের কাঁচা সবজির মধ্যে শসা, লেটুস পাতা এবং টমেটো খেতে নিষেধ করা হচ্ছে।
সূত্র:দৈনিকআমারদেশ
কী এই ই-কোলাই?
ই-কোলাই এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া। এটা সাধারণত তেমন কোনো ক্ষতি করে না। কিন্তু মানব দেহে তা খাবারের সঙ্গে প্রবেশ করতে পারে। প্রবেশ করলে তা ফুড-পয়জনিং বা খাবারে বিষক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। ফলে মানুষটি মারা যেতে পারে। ই-কোলাইয়ের ব্যাকটেরিয়া সাধারণত পাকস্থলীতে আশ্রয় নেয়। সেখান থেকেই শুরু হয় বিষক্রিয়া। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, এর আগে ই-কোলাইয়ের ব্যাকটেরিয়ার কথা কেউ জানত না। এটা সম্পূর্ণ নতুন একটা ব্যাকটেরিয়া। ই-কোলাইয়ের আবির্ভাব এই প্রথম। এর মূল উত্স কোথায় তা এখনও জানা যায়নি। ই-কোলাইয়ের ব্যাকটেরিয়া খালি চোখে দেখা যায় না। এর দৈর্ঘ্য দুই মিলিমিটার। দেখতে সিলিন্ডারের মতো। রঙ সাধারণত লাল।
সম্পূর্ণ নতুন একটি ব্যাকটেরিয়া
খাবার-দাবার, কাচাা শাকসবজি আমদানি এবং রফতানি ছাড়াও অসুখ-বিসুখ নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে একটি চুক্তি হলো—যদি কোনো ধরনের ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া একটি দেশে ছড়িয়ে পড়ে তাহলে অন্য দেশগুলোকে দ্রুত সচেতন ও সতর্ক করে দেয়া। খাবারের মধ্য দিয়ে যদি কোনো ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে তাহলে তা আরএএসএফএফ বা র্যাপিড অ্যালার্ম সিস্টেম ফর ফুড অ্যান্ড ফিডকে জানানো জরুরি। তবে বাস্তব সত্য হলো, ই-কোলাই নিয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করার আগেই বেশ কয়েকজন প্রাণ হারিয়েছেন। জার্মানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সবার আগে এবং জার্মানিতেই প্রথম ব্যাকটেরিয়াটি ধরা পড়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কৃষি দফতরের কমিশনার ডাসিয়ান সিওলোস জানান, আমি বিশ্বাস করি যে সাধারণ মানুষের বিভিন্ন পণ্যের ওপর আস্থা ফিরিয়ে আনা জরুরি। যেসব খাবার, কাঁচা শাকসবজি বাজারে বা সুপার মার্কেটে বিক্রি হচ্ছে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয় তা জানানো প্রয়োজন। তবে কোনো অবস্থাতেই কোনো দেশ বা সংস্থাকে দোষী সাব্যস্ত করা ঠিক হবে না। যেসব পণ্য আমদানি বা রফতানি করা হয় তার প্রতিটিই দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সূক্ষ্মভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হয়। তারপরও কিছু কিছু জিনিস আমাদের চোখ ফাঁকি দেয় এবং এর মারাত্মক ফল ভোগ করে পণ্য প্রস্তুতকারীরা।
তবে ডাসিয়ান সিওলোস বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বাস্থ্য দফতরের কমিশনার জন ডালি ই-কোলাইয়ের বিস্তারকে মারাত্মক বলে আখ্যায়িত করেছেন। ডালি বললেন, আমি কাউকে বলব না হামবুর্গে বেড়াতে যেও না। তা একেবারেই ঠিক হবে না। আমি মনে করি, আমাদের আরও স্বাস্থ্যসম্মতভাবে চলাফেরা করা উচিত। যেমন প্রতিবার খাওয়ার আগে ভালোমত হাত ধুয়ে নেয়া, কাঁচা ফল বা সবজি যা খেতে রান্নার প্রয়োজন হয় না তা ভালোমত ধুয়ে তারপর খাওয়া। এসব নিয়ম-কানুন মেনে চললে সমস্যা এমনি থেকেই কমে আসবে। ভয় পাওয়ার মতো কিছু নেই।
হামবুর্গে এই রোগ প্রথম ধরা পড়ায় সেখানে সবাই ভীত। এখন পর্যন্ত যেসব মানুষ অসুস্থ রয়েছে তাদের চিকিত্সার জন্য রক্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, প্রায় দুশ’ মানুষ এই ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত, তাদের চিকিত্সা চলছে।
সুইডেনে ই-কোলাইয়ে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে একজন। সারা ইউরোপে প্রায় পনেরশ’ মানুষ ই-কোলাইয়ে আক্রান্ত। আমেরিকা পর্যন্ত তা ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা তিন। কাঁচা সবজি কেনা বন্ধ রেখেছে মানুষ। আর এর খেসারত দিতে হচ্ছে কৃষকদের। স্পেন জানিয়েছে, গত সপ্তাহে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে প্রায় দুশ’ মিলিয়ন ইউরো। জার্মান কৃষকদের অবস্থাও ভালো নয়। ভয়ে ক্রেতারা কাঁচা শাকসবজি কেনা পুরোপুরি বন্ধ রেখেছে। জার্মানিতে ভোক্তাদের কাঁচা সবজির মধ্যে শসা, লেটুস পাতা এবং টমেটো খেতে নিষেধ করা হচ্ছে।
সূত্র:দৈনিকআমারদেশ

No comments:
Post a Comment