Tuesday, June 21, 2011

বার্ধক্য ও বিষণ্নতা


দেহের অসুখ হলে আমরা যাই চিকিৎসকের কাছে। কিন্তু মনের অসুখ হলে আমরা সেটা চেপে রাখার চেষ্টা করি, যা ঠিক নয়। অত্যধিক বিষণ্নতা মনের একটি দুর্বল ও কষ্টকর মুহূর্তের অনুভূতি, যার জন্য উচিত মানসিক চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া।
বিষণ্নতা সাধারণ কতগুলো আবেগের বহিঃপ্রকাশ মাত্র। তবে বিষণ্ন আবেগ যদি এতটাই হয় যে এটি সাধারণ কাজকর্ম বা অন্যান্য ক্রিয়াকর্মের বাধা সৃষ্টি করে বা এর কারণে ব্যক্তিজীবন ব্যাহত হয়, তখন এই বিষণ্ন আবেগকে আমরা বিষণ্নতা বলে থাকি। বিষণ্ন আবেগের প্রকাশ ১৫ দিন থাকলে এবং ওই ব্যক্তির কাজে ব্যাঘাত ঘটলে এই বিষণ্নতা রোগের চিকিৎসা নেওয়া দরকার।

নারীদের হার্ট অ্যাটাক সংকেত জানা উচিত সবার

বেশির ভাগ নারী পুরুষদের হার্ট অ্যাটাকসংকেত জেনে-বুঝেই অভ্যস্ত। নিজেদের এমন বিপর্যয় হলে যে তা বেশ ভিন্ন হতে পারে পুরুষদের তুলনায়, তা অনেকেই জানেন না মনে হয়। বুক চেপে প্রচণ্ড ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, বমিভাব—এই তো জানা। 
দেখা যায়, নারীদের হার্ট অ্যাটাকের উপসর্গ হতে পারে একেবারে আলাদা। আর তাই সতর্ক সংকেতগুলো জানা সব নারীর উচিত, এমনকি পুরুষদেরও। একজন নারীর কথা বলি। নাম উহ্য থাক। তার বাঁ দিকের স্তন ও বাঁ দিকের বাহুতে প্রবল ব্যথা হওয়ায় হতবুদ্ধি হলেন তিনি। ৩৬ বছর বয়সী ওই নারীর তিন ছেলেমেয়ে তখন বুঝতেই পারেননি যে এ হচ্ছে একটি হার্ট অ্যাটাকের আগাম সংকেত। ‘আমার হার্টে সমস্যা হতে পারে, তা আমি অবশ্যই ভাবছিলাম না, কারণ আমি ছিলাম তরুণী এবং ক্ষীণাঙ্গী। আমার হার্ট অ্যাটাক হবে কেন?’

Tuesday, June 14, 2011

অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ

অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এর প্রভাবে শরীরের সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষতি হতে পারে। তবে মস্তিষ্ক, হার্ট ও কিডনি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রক্তচাপ অনিয়ন্ত্রণে থাকলে স্ট্রোকের ঝুঁকি সাতগুণ বেড়ে যায়, হার্ট ফেইলুরের ঝুঁকি ছয়গুণ এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি তিনগুণ বাড়ে। আমাদের দেশে ১৮ বছর বয়সের ঊর্ধ্বে শতকরা ১৫ থেকে ২০ ভাগ লোক উচ্চ রক্তচাপে ভুগছে। যদি কোনো লোকের ৫০ বছর বয়সেও স্বাভাবিক রক্তচাপ থাকে এবং সে যদি ৮০ বছর বাঁচে; তবে তার উচ্চ রক্তচাপে ভোগার সম্ভাবনা শতকরা ৯০ ভাগ। সাধারণত আমরা বলে থাকি, ১১৫/৭৫ সস.ঐম রক্তচাপ থাকা ভালো। তার ওপরে যদি রক্তচাপ থাকে তবে তাতে মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যায়। ডায়াবেটিস ও কিডনি রোগীদের এই ঝুঁকি আরও বেশি। রক্তচাপ যদি ১৪০/৯০ সস.ঐম-এর ওপর থাকে তবে তাকে উচ্চ রক্তচাপ হিসেবে ধরা হয়। রক্তচাপের ঠিকমত চিকিত্সা না করলে সেটা অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপের পর্যায়ে পড়ে। অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপের ঠিকমত চিকিত্সা করা উচিত।

ই-কোলাই : নতুন ব্যাকটেরিয়া নিয়ে চিন্তিত ইউরোপ

সম্প্রতি যে রোগ নিয়ে ইউরোপে হৈ চৈ পড়ে গেছে তার নাম ই-কোলাই। গত সপ্তাহ পর্যন্ত শুধু জার্মানিতে প্রায় ১৭ জন মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়ছে। প্রথমে বলা হয়েছিল স্পেন থেকে আমদানি করা শসা থেকে এই ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে পড়েছে। পরে জানা গেছে শসা এর মূল উত্স নয়। ভয়ে তাই স্পেন থেকে আসা কাঁচা শাক-সবজি কেনা বন্ধ রেখেছে মানুষ। কী এই ই-কোলাই? কীভাবে এর প্রতিকার করা যায়?

ভালো ঘুমের জন্য টিপস



সবাই চায় সারাদিনের ক্লান্তি শেষে রাতে ভালো ঘুম হোক। আর অনেকে ঘুমের জন্য কত না যুদ্ধ করেন। শেষ পর্যন্ত অনেককে ঘুমের ওষুধ পর্যন্ত সেবন করতে হয়। তবে ভালো ঘুমের জন্য যা জানা দরকার—
— নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে, যাতে শরীরে অবসাদ না পেয়ে বসে।
— সন্ধ্যা ৭টার পর কফি বা ক্যাফেইনসমৃদ্ধ খাবার ও পানীয় থেকে বিরত থাকুন।
— ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত ১ ঘণ্টা আগে থেকে কোনো চিন্তার কাজ করবেন না। টোটাল রিলাক্সড মুডে থাকতে হবে।
— ঘুমানোর ঘরটি হতে হবে একেবারেই কোলাহলমুক্ত।
— ঘুমানোর সময় সব ধরনের বাতি নিভিয়ে দিন।
— যদি ঘুম আসতে বিলম্ব হয় তবে খানিকটা লম্বা শ্বাস নিন।

Thursday, June 9, 2011

হূৎপিণ্ড নিজেই নিজের মেরামত করবে.....

এটা এমন এক ওষুধ, যা ব্যবহারে ক্ষতিগ্রস্ত হূৎপিণ্ড নিজের প্রয়োজনীয় মেরামত নিজেই করে নেবে। গবেষণায় ইঁদুরের শরীরে এই ওষুধ প্রয়োগ করে সুফল পাওয়া গেছে। যুক্তরাজ্যের একদল গবেষক পরীক্ষাগারে ‘থাইমোসিন বিটা ফোর’ নামের ওষুধটি নিয়ে এ পরীক্ষা চালান। নেচার সাময়িকীতে এই গবেষণাবিষয়ক একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়।
যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের গবেষকেরা এই গবেষণা চালান। তাঁদের ভাষ্য, ‘থাইমোসিন বিটা ফোর’ ওষুধটি যদি হূদেরাগে আক্রান্ত হওয়ার ক্ষেত্রে আগাম ব্যবহার করা যায়, তাহলে এটি হূৎপিণ্ডের ক্ষতি সারিয়ে তোলার জন্য তৈরি থাকবে। ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশন এটিকে হূৎপিণ্ডের গবেষণায় একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য বলে অভিহিত করেছে। তবে মানুষের চিকিৎসায় এই ওষুধ প্রয়োগের মতো

Wednesday, June 8, 2011

মাথা ঘোরা

মাথা ঘোরানো মানুষের এক বিশেষ ধরনের অনুভূতি। কেউ কেউ নিজেই ঘুরছেন বলে অনুভব করেন। আবার অনেকে তাঁর চারপাশে ঘুরছে বলে অনুভব করেন। কারণ হিসেবে অন্তকর্ণের অসুবিধা অথবা ৮ নং (ভেস্টিবুলা ককলিয়ার) নার্ভের অসুবিধার জন্য হতে পারে। উচ্চরক্তচাপের জন্য মাথা ঘুরতে পারে। এসব রোগীর অনেক সময় কানের মধ্যে অস্বাভাবিকভাবে টিন টিন বা শোঁ শোঁ শব্দ হতে পারে। কখনো কখনো কানে কম শুনে থাকেন। এ ছাড়া ব্রেনের পেছনে রক্ত সরবরাহের ত্রুটি ও ঘাড়ের রক্তনালিতে ব্লকের কারণে মাথা ঘোরাতে পারে। কোনো কোনো রোগীর রক্তে লবণের তারতম্যের (ইলেকট্রলাইট ইমব্যালেন্স) জন্য এমনটা হতে পারে। 

অমনোযোগী ও ডানপিটে শিশু

শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ
চট্টগ্রাম মেডিকেলকলেজ হাসপাতাল

সংক্ষিপ্ত নাম এডিএইচডি। অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপার অ্যাকটিভিটি ডিসঅর্ডার। স্কুল বয়সের ৮-১০ শতাংশ শিশুরা এতে ভোগে। তাই শিশুদের পরিচিত আচরণজনিত সমস্যা হিসেবে এটা স্বীকৃত। মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের মধ্যে এর প্রকোপ তিন গুণ বেশি। এসব শিশু কোথাও স্থির হয়ে বসে থাকতে পারে না। মনোযোগ দিয়ে কিছু করে না। সুসংবাদ এই, যথাযথ চিকিৎসায় এডিএইচডির বাচ্চা ভালোভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে ও উপসর্গাদির লাঘব হয়।

Sunday, June 5, 2011

জিহ্বা দেখে রোগ চিনুন

মানুষের দেহে বিভিন্ন ধরনের অঙ্গপ্রতঙ্গ রয়েছে। এগুলো বিভিন্নভাবে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সাহায্য করে থাকে। মানুষের দেহে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ জিহ্বা। সাধারণত আমরা মনে করি, কথা বলতে অর্থাত্ মনের ভাব প্রকাশ করতে আর মজার মজার খাবারের স্বাদ নিতে জিহ্বা সবচেয়ে বেশি কাজে লাগে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলছেন, জিহ্বা শুধু খাবারের স্বাদ বা কথা বলতেই সাহায্য করে না বরং জিহ্বা আমাদের দেহের বিভিন্ন রোগ ও অভ্যন্তরীণ জটিলতা নিরুপণ করতেও বিশেষভাবে সাহায্য করে। সাধারণত একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের জিহ্বার রঙ থাকে হালকা লাল বা অনেকটা কাঁচা

ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য মেথি

মেথিকে মসলা, খাবার, পথ্য—তিনটাই বলা চলে। মেথির স্বাদ তিতা ধরনের। এতে রয়েছে রক্তের চিনির মাত্রা কমানোর বিস্ময়কর শক্তি। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে মেথি চিবিয়ে খেলে বা এক গ্লাস পানিতে মেথি ভিজিয়ে রেখে সেই পানি খেলে শরীরের রোগ-জীবাণু মরে, বিশেষত কৃমি মরে, রক্তের চিনির মাত্রা কমে। রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল বা চর্বির মাত্রা কমে যায়।

শিশুর দাঁতের যত্ন



শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

এক. কখন থেকে যত্ন নেওয়ার শুরু
দাঁত না ওঠার অর্থ এই নয় যে এগুলো ওখানে নেই। গর্ভকালীন দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক সময়ে দাঁত গঠিত হতে শুরু করে। জন্মের সময়ে শিশুর মাড়িতে ২০ প্রাইমারি দন্ত থাকে তার অনেকগুলো চোয়ালে পরিপূর্ণভাবে গজিয়ে যায়। সুতরাং প্রথম দন্ত কৌমুদী প্রস্ফুটনের আগে শিশুর দাঁতের পরিচর্যা করা উত্তম।
শিশুকে খাওয়ানোর পরে পরিচ্ছন্ন জলে পাতলা কাপড় ভিজিয়ে দাঁতের মাড়ি পরিষ্কার করা যায়। এতে ব্যাকটেরিয়া ওখানে জমাট বাঁধতে পারে না। আর যখনই কয়েকটা দাঁত মুকুলিত হবে তখনই দিনশেষে নরম টুথব্রাশ কিংবা গজ পিস দিয়ে তা পরিষ্কার রাখা যায়।

অতিরিক্ত গরম ও স্বাস্থ্যসমস্যা


 ডিন, মেডিসিন অনুষদ, অধ্যাপক, মেডিসিন বিভাগ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

চলছে গ্রীষ্মকাল। বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠের প্রচণ্ড গরমে চারদিক অস্থির। সেই সঙ্গে রয়েছে আর্দ্রতা। এ কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত। গরমে বাড়ছে স্বাস্থ্যসমস্যা, রোগ, জ্বরা। ঘামাচি কিংবা পানিস্বল্পতার মতো সমস্যা প্রায় প্রত্যেকেরই হচ্ছে। আবার কেউ কেউ হিটস্ট্রোকের মতো গুরুতর সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন। এর সঙ্গেও হতে পারে অবসাদ, অ্যালার্জি, সূর্যরশ্মিতে চর্ম পুড়ে যাওয়া, হজমের অভাবে বমি বা ডায়রিয়াজনিত রোগ ইত্যাদি।