সচেতনতাই নিউমোনিয়া নির্মূলে সবচেয়ে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে বলে মত প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্ব নিউমোনিয়া দিবস ও নিউমোনিয়া রোগের মূল বৈশিষ্ট্য বিষয়ক এক সংলাপে রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এ মত দেন তারা।
বিশ্ব নিউমোনিয়া দিবস ও নিউমোনিয়া রোগের মূল বৈশিষ্ট্য বিষয়ক এক সংলাপে রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এ মত দেন তারা।
'ফেসেস অব নিউমোনিয়া' শীর্ষক এ সংলাপে বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন ইন ডায়াবেটিস, এন্ডোক্রাইন অ্যান্ড মেটাবোলিক ডিজঅর্ডার্সের (বারডেম) অতিরিক্ত পরিচালক অধ্যাপক নাজমুন নাহার বলেন, কোনো অসুখ হলে আমরা প্রথমে পারিবারিকভাবে চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করে পরে চিকিৎসকের কাছে রোগীকে নিয়ে যাই। কিন্তু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে দেরি করে চিকিৎসকের কাছে যারা আসে তাদের ক্ষেত্রেই সাধারণত মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
পরিবেশ দূষণের কারণেও শিশুদের মাঝে নিউমোনিয়া ছড়াতে পারে বলে সতর্ক করে তিনি বলেন, এক্ষেত্রে সুরক্ষার জন্য স্কুলের শিশুরা মাস্ক ব্যবহার করতে পারে।
বাংলাদেশ শিশু চিকিৎসক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হানিফ বলেন, সচেতনতা ও ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে পোলিও ও হেপাটাইসিস বি এর মতো নিউমোনিয়াও নির্মূল করা সম্ভব। নিউমোনিয়াজনিত কারণে শিশু মৃত্যুর শতকরা ৯৮ ভাগই হয়ে থাকে বাংলাদেশসহ নাইজেরিয়া ও মালাউয়ির মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে।
তিনি জানান, বাংলাদেশে মাত্র ৩৭ শতাংশ নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশুকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়।
জাতীয় অধ্যাপক ডা. এম আর খান বলেন, পারিবারের সদস্যরাই যাতে নিউমোনিয়া সনাক্ত করতে পারে সেজন্য আমরা কাজ করছি। বাসায় ধোঁয়ামুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি, শিশুদের সামনে হাঁচি বা কাশি না দেওয়া ও ঘরে পর্যাপ্ত অক্সিজেনের প্রবাহ নিশ্চিত করে খুব সহজে এ রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
শুধু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বিশ্বে প্রতি বছর কয়েক লাখ শিশু মারা যায় উল্লেখ করে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট সদস্য জিম ডবিন বলেন, সরকারি ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে একযোগে কাজ করলে এ রোগ থেকে মুক্তি লাভ সম্ভব।
ব্রিটিশ সরকার নিউমোনিয়া প্রতিরোধে ইউনিসেফের একটি প্রকল্পে অর্থায়ন করছে বলে জানান তিনি।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, টীকা দেওয়ার মাধ্যমে ২০১১-১৫ সালে ২৫ কোটি শিশুকে নিউমোনিয়ার হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।
সংলাপে অন্যদের মধ্যে বেসরকারি সংস্থা সেভ দ্যা চিলড্রেনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিভাগের পরিচালক মাইকেল ফলি, বাংলাদেশ শিশু চিকিৎসক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ডা. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক ড. শামসুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় নিউমোনিয়া থেকে আরোগ্য লাভ করা কয়েকজন শিশু তাদের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তাদের নির্বাচন করে সেভ দ্য চিলড্রেন। এর পর শিশুদের অংশগ্রহণে নিউমোনিয়া বিষয়ক সচেতনতামূলক একটি 'নাটিকা' প্রদর্শন হয়।
সেভ দ্য চিলড্রেন, বাংলাদেশ শিশু চিকিৎসক সমিতি, পরিপ্রেক্ষিত, আইসিডিডিআর'বি, স্মাইলিং সান ফ্যানসিস প্রোগ্রাম, শিশু স্বাস্থ্য গবেষণা ফাউন্ডেশন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
সারা বিশ্বে ১২ নভেম্বর বিশ্ব নিউমোনিয়া দিবস পালিত হলেও বাংলাদেশ শিশু চিকিৎসক সমিতির উদ্যোগে দেশের ১৯টি মেডিকেল কলেজে রোববার এ দিবস পালিত হয়।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/
No comments:
Post a Comment