যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে পিঠের ব্যথায় ভুগছেন, ওষুধ খেয়েও ব্যথা কমাতে পারছেন না তাঁদের অনেকেই হয়তো এর জন্য দীর্ঘক্ষণ চেয়ারে বসে কাজ করাকে দায়ী করে থাকেন। আবার চেয়ারে বসে কাজ করাটাকেই নিয়তি ভেবে পিঠের ব্যথাকে (ব্যাক পেইন) সঙ্গে নিয়ে অস্বস্তিকর জীবন কাটান। তাঁদের জন্য একটি সুখবর আছে।
সুখবরটি জানানোর আগে বলা ভালো, দীর্ঘস্থায়ী ব্যাক পেইনের জন্য দায়ী হলো এইচসিএন২ নামের (HCN2) মানব শরীরের একটি জিন। আর পিঠের ব্যথার সেই দায়ী জিনকেই আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা।
কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে সায়েন্স জার্নালে এ-সংক্রান্ত গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেস রিসার্চ কাউন্সিল (বিবিএসআরসি) ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সহযোগিতায় এ গবেষণা চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
গতকাল শুক্রবার বিবিসি অনলাইনের এক খবরে বলা হয়, পিঠের ব্যথার জন্য দায়ী এই জিনটিকে ধ্বংস করে দিলেই দীর্ঘস্থায়ী ব্যাক পেইন থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। তবে তীব্র ব্যথার ক্ষেত্রে এটা কোনো প্রভাব ফেলতে পারবে না।
যুক্তরাজ্যে প্রতি সাতজনে একজন দীর্ঘস্থায়ী ব্যথায় ভোগেন। এর মধ্যে গেঁটে বাত ও মাথাব্যথা আছে। গবেষকেরা বলেছেন, এই জিন শনাক্ত হওয়ায় এ জন্য নতুন ওষুধ আবিষ্কার করা সম্ভব হবে। ওই ওষুধ এই জিনের প্রোটিন উত্পাদন বন্ধ করে দেবে। আর এটা বন্ধ হয়ে গেলেই দীর্ঘস্থায়ী পিঠের ব্যথা থেকেও মুক্তি মিলবে। কারণ, এইচসিএন২ জিন উত্পাদিত প্রোটিনই দীর্ঘস্থায়ী এ ব্যথাকে নিয়ন্ত্রণ করে।
জানা গেছে, গবেষকেরা জেনেটিক্যালি মডিফায়েড একটি ইঁদুরের ওপর এ গবেষণা চালিয়েছেন। প্রথমে ইঁদুরের ব্যথার জন্য দায়ী স্নায়ু থেকে এইচসিএন২ জিনটিকে সরিয়ে নেওয়া হয়। জিনটি সরিয়ে নেওয়ার পর ব্যথা দিলে ইঁদুরটি কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায় কি না, তা জানার জন্য বৈদ্যুতিক উদ্দীপক দিয়ে ইঁদুরকে ব্যথা দেওয়া হয়। কিন্তু এতে ইঁদুরটির কোনো প্রতিক্রিয়া হয়নি। এ থেকে বিজ্ঞানীরা সিদ্ধান্তে আসেন যে মানব শরীর থেকেও এইচসিএন২ জিনটি সরিয়ে দিলেই স্নায়ু-বিকারগ্রস্ত ব্যথা থেকে উপশম পাওয়া যাবে। তবে জিনটি সরিয়ে ফেলায় তীব্র ব্যথা বা হঠাত্ করে হওয়া কোনো ব্যথার ক্ষেত্রে তা প্রভাব ফেলতে পারবে না।
গবেষণা দলের প্রধান ও কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক পিটার ম্যাকনাফটন বলেছেন, ‘এ গবেষণা মানুষের জন্য নতুন আশার সঞ্চার করেছে। আমরা গবেষণা করেছি, ওষুধের উন্নয়ন ঘটিয়ে ওই জিনটিকে প্রতিরোধ করা হবে। আর এটা এমন ভাবে সরানো হবে, যাতে হঠাত্ কোনো ব্যথার ওপর প্রভাব ফেলতে না পারে। কারণ, হঠাত্ সৃষ্ট ব্যথা শরীরের যে কোনো দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য খুবই উপকারী।’
চ্যারিটি ব্যাক কেয়ারের চেয়ারম্যান ব্রিয়ান হ্যামন্ড বলেছেন, গবেষণার ফলাফলটি অবশ্যই সবার জন্য সুসংবাদ। দীর্ঘস্থায়ী পিঠের ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে যেকোনো ধরনের কার্যকরী চিকিত্সাব্যবস্থাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন তিনি।
সূত্র:প্রথমআলো.কম, ১০/০৯/২০১১
No comments:
Post a Comment